• সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
Headline
চান্দগাঁওয়ে মৌরশী সম্পত্তি দখল রোধে ওসি জাহিদুল কবিরের তৎপরতা: এসআই’র ভূমিকা প্রশংসনীয় চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি গোলাম সারোয়ার—মানবিকতা, সাহস ও বুদ্ধিমত্তার উজ্জ্বল আলোকবিন্দু, যিনি যেখানে যান সেখানেই রেখে যান সাফল্যের স্বাক্ষর চাটগাঁইয়া ওরশ বিরিয়ানি এন্ড মেজবানির শুভ উদ্বোধন আনোয়ারা সাব রেজিস্ট্রারের ঘুষের দোকানে অফিস সহকারীর চেয়ারে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায় করেন কোটিপতি ঝাড়ুদার আহাদ জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ ও প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান – ডিসি জাহিদুল ইসলাম বৃটিশ আইন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ও ভূমি সেবা পরাধীন-জমির জটিলতায় পিষ্ট জনগন- সংস্কার কমিশন সুপারিশ “একক ভূমি ব‍্যবস্থাপনা” বাস্তবায়ন করা হোক। সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাপ্রধানকে “সেনাবাহিনী পদক’ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক ইসমাইল ইমনকে হুমকির প্রতিবাদ সিআরএফের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার দায়িত্ব গ্রহণ. রাঙ্গামাটিতে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১১-২০ গ্রেডের ৯৩ শতাংশ মেধার দাবিতে স্মারকলিপি পেশ

আইন-শৃঙ্খলা মানেই শুধু কঠোরতা নয়, এটি মানবিকতারও দায়িত্ব” — চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ.

Reporter Name / ১৫৮ Time View
Update : শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫

আইন-শৃঙ্খলা মানেই শুধু কঠোরতা নয়, এটি মানবিকতারও দায়িত্ব” — চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ-

–মো.কামাল উদ্দিনঃ সাদা–কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সাক্ষাৎকার- গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা ও জনসেবায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের একজন প্রাজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তা। পুলিশি সেবার পরিবারগত ঐতিহ্য তার জন্য প্রেরণার উৎস—তার বাবা আজিজুল হক সাহেব চট্টগ্রামে ডিআইজি এবং পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, পরে আইজিপি পদে দায়িত্ব পালন এবং তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বও সামলেছেন। এই ধারাবাহিকতায় হাসিব আজিজ সাহেবও একজন দায়িত্বনিষ্ঠ, দক্ষ ও প্রাজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কেবল অপরাধ দমনেই মনোনিবেশ করেননি; বরং জনসেবা, ট্রাফিক শৃঙ্খলা, মাদক ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বন্দর ও শিল্প এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের সঙ্গে নিকট যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পুলিশিংকে আরও মানবিক ও কার্যকর করেছেন। অনেকে আশা করেন, একদিন তিনি আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভ করবেন এবং পুলিশ বিভাগের গৌরবময় ইতিহাসে নতুন এক গাঁথা সৃষ্টি করবেন। এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আমরা পাবো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, অভিজ্ঞতা ও চট্টগ্রাম মহানগরের জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান—যা একজন নিখুঁত পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সমৃদ্ধ জীবন ও কর্মের এক সংক্ষিপ্ত প্রতিচ্ছবি। চট্টগ্রাম—একটি শহর যা কেবল বন্দর নয়, এটি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র, শিল্পকলার ঘনিষ্ঠ এলাকা, বহুজনের আবাসস্থল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক মিলনের জায়গা। এই শহরকে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা নিছক প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি শত শত পরিবার, শিশু, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার দায়। এই দায়িত্বে নিযুক্ত রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমন একজন কর্মকর্তা যিনি কঠোর হলেও মানবিক; প্রযুক্তিনির্ভর হলেও মানুষের পাশে; প্রশাসক হলেও জনসেবার মূল লক্ষ্য সর্বদা স্মরণে রাখেন। সাদা–কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের পক্ষ থেকে নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, চ্যালেঞ্জ, অর্জন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা। সাক্ষাৎকার–
প্রশ্ন ১: চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী?
কমিশনার হাসিব আজিজঃ
চট্টগ্রাম একটি বহুমুখী শহর। এখানে বন্দর, শিল্প এলাকা, ঘনবসতি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভিড়মান জনসংখ্যা—সবই একটি জটিল প্রেক্ষাপট তৈরি করে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রথমে নিজেকে বলেছিলাম, “শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে হবে, শুধু অপরাধ দমন নয়, মানুষের আস্থা অর্জনই প্রধান।” আমার মূল লক্ষ্য ছিল: অপরাধ প্রতিরোধ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া, মাদক ও গ্যাং সংস্কৃতি দমন,স্মার্ট ও প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি,ট্রাফিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা,জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ
আমরা চাই, চট্টগ্রামে প্রতিটি মানুষ—যা তার নাগরিক অধিকার মনে করে—নিরাপদ থাকুক। আমরা চাই শিশু, নারী, প্রবীণরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। নিরাপত্তা যেন শহরের প্রতিটি কোণে পৌঁছে।

প্রশ্ন ২: দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে কোন বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে?
কমিশনারঃ
প্রথমে আমরা বিট পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করেছি। প্রতিটি থানা এলাকা ভাগ করে নির্দিষ্ট পুলিশ সদস্যরা নেমেছেন জনসংযোগ ও তৎক্ষণাৎ সাড়া দেওয়ার জন্য।
CCTV ও প্রযুক্তি ব্যবহার: শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বন্দর এলাকার নজরদারি আমরা আরও শক্তিশালী করেছি। AI-ভিত্তিক সিসিটিভি ব্যবস্থার সাহায্যে সন্দেহজনক কার্যক্রম চিহ্নিত করা হচ্ছে।
রাতের নিরাপত্তা: আমরা মোবাইল টিম এবং মোটরসাইকেল টহল বাড়িয়েছি। এতে রাতের সময় অপরাধ দমনে দ্রুত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি। কোন থানায় বিলম্ব বা অনিয়ম হলে সরাসরি তদারকি করি।
প্রশ্ন ৩: জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
কমিশনারঃ
মানুষের আস্থা অর্জনই পুলিশের বড় শক্তি। আমি সবসময় বলি—“মানুষ আপনার বন্ধু, তাদের পাশে দাঁড়ান।”
আমরা চালু করেছি: Hello Commissioner, Hello OC—সরাসরি অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, থানায় আলাদা কাউন্টার শিশু, নারী ও প্রবীণদের জন্য,বিট পুলিশিং এবং কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালী করা
এতে মানুষ পুলিশকে শুধু কর্তৃত্বের প্রতীক নয়, বরং সহযোগীরূপে দেখছে।
প্রশ্ন ৪: মাদককে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলা হয়। আপনার অভিজ্ঞতা কী বলছে?
কমিশনারঃ
মাদক শুধুই অপরাধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ, যুবসমাজকে ধ্বংস করে। তাই আমরা মাদকবিরোধী বিশেষ টাস্কফোর্স চালু করেছি। প্রতিদিনই অভিযান চলছে—নগরীর কিশোর গ্যাং, ইয়াবা, আইস, ফেন্সিডিলসহ সব ধরনের মাদকবিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।
মাধ্যমিক বার্তা: যারা মাদক ব্যবসায় লিপ্ত—তাদের জন্য কোনো ছাড় নেই।
প্রশ্ন ৫: প্রযুক্তি ব্যবহার কতটা জরুরি মনে করেন?
কমিশনারঃ
ভবিষ্যতের পুলিশিং প্রযুক্তিভিত্তিক হবে। আমরা ইতিমধ্যেই: AI-ভিত্তিক সিসিটিভি অ্যানালিটিক্স,ডিজিটাল অপরাধ ডেটাবেজ,পরীক্ষামূলক ড্রোন নজরদারি
ব্যবহার শুরু করেছি। লক্ষ্য—চট্টগ্রামকে একটি Smart Policed City হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রশ্ন ৬: সম্প্রতি সাইবার অপরাধ, ওয়াকিটকি বার্তা ফাঁস নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
কমিশনারঃ
এগুলোকে আমরা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কখনো কখনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ। আলোচনার দরজা সবসময় খোলা থাকে।
প্রশ্ন ৭: ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা কেমন আছে?
কমিশনারঃ
চট্টগ্রাম শহরের সড়ক সংকীর্ণ, জনসংখ্যা ঘন, বন্দর এলাকায় যানজট চরম। আমরা: নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বন্দর পরিবহন নিয়ন্ত্রণ,সিগন্যাল ও মোবাইল ট্রাফিক টিম বৃদ্ধি,মোটরসাইকেল অপরাধ কমানো
ফলে মানুষের অভিযোগ কমেছে এবং ট্রাফিকের শৃঙ্খলা বেড়েছে।
প্রশ্ন ৮: আপনার নেতৃত্বের দর্শন কী?
কমিশনারঃ
কঠোরতা, মানবিকতা ও জবাবদিহিতা—এই তিন মূলনীতি।,অপরাধ দমন কঠোর,মানুষের সঙ্গে আচরণ মানবিক,অফিসারদের ওপর জবাবদিহিতা নিশ্চিত
এভাবেই চট্টগ্রামে পুলিশিংকে আধুনিক ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৯: ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য কী?
কমিশনারঃ
চট্টগ্রামকে একটি Safe, Smart & Peaceful City বানানো।,রাতে মানুষ নিশ্চিন্তে চলাফেরা করবে,নারী, শিশু, প্রবীণ নিরাপদ থাকবে,মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে,শিল্প ও বন্দর নিরাপদ থাকবে,ট্রাফিক শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া, কিন্তু আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ তার অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের কথা সোজাসাপ্টা ভাষায় তুলে ধরলেন। তিনি বলেন—
২০২৪ সালের কঠিন ও চ্যালেঞ্জময় সময়ে চট্টগ্রামে দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে নগরের ১৬টি থানায় যেসব অফিসার ইনচার্জকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেকেই প্রশংসনীয় সফলতা দেখিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে বহু পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পুনর্গঠন হয়েছে। তবু তিনি স্পষ্ট করে জানান—এই ১৬ জন ওসির পুরো আমলনামা তার নখদর্পণে রয়েছে।
কমিশনার হাসিব আজিজের বক্তব্যে দৃঢ়তা ও পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলোতে যে সব নির্ভীক, সাহসী ও পেশাদার ওসি দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের যথাযোগ্য মূল্যায়ন করা হবে। তাদের কাজ, মনোভাব, তদন্ত দক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তিনি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেবেন। তবে একইসঙ্গে তিনি নির্ভীকভাবে স্বীকার করেন যে, কিছু অফিসার ইনচার্জ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন, এবং তাদের ভাষা-ব্যবহার, আচরণ ও বাচনভঙ্গি পেশাদার পুলিশের মানসিকতা বহন করে না। এদের বিষয়ে তিনি কঠোর কিন্তু মানবিক অবস্থান জানান, বলেন— তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। কমিশনারের কথায় উঠে আসে একদিকে পেশাদারিত্বের প্রশংসা, অন্যদিকে অনিয়ম-অপকর্মের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান—যা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার এক সৎ ও স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি। সাক্ষাৎকারের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ-

হাসিব আজিজ একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, স্পষ্টভাষী কর্মকর্তা। কঠোরতার আড়ালে আছে গভীর মানবিকতা। তিনি মনে করেন—শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা মানে শুধুই অপরাধ দমন নয়, জনগণের আস্থা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্ব শহরের মানুষের মধ্যে নতুন আস্থা ও নিরাপত্তার বোধ সৃষ্টি করছে।
সাদা–কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজের পক্ষ থেকে বলা যায়, এই সাক্ষাৎকার কেবল একজন পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য নয়; এটি চট্টগ্রাম শহরের নিরাপত্তাবোধের প্রতিচ্ছবি, একটি প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার এবং একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মানসিকতার পরিচয়। কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের কর্মজীবন এবং নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি দেখা মাত্রই স্পষ্ট হয়, কেন তিনি চট্টগ্রাম মহানগরীর পুলিশিং ব্যবস্থার অমুল্য গুণী ব্যক্তি। একজন সাংবাদিক, লেখক এবং টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দীর্ঘদিন এই শহরের ঘটনা ও মানুষকে পর্যালোচনা করার অভিজ্ঞতায় আমি বলতে পারি, তাঁর নেতৃত্ব শুধুই প্রশাসনিক কর্তৃত্ব নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, আস্থা অর্জনের এবং আইন-শৃঙ্খলা ও মানবিকতার সংমিশ্রণ। হাসিব আজিজের কৌশল ও কর্মকাণ্ড আমাকে মনে করিয়ে দেয়, পুলিশিং মানেই শুধু অপরাধ দমন নয়, বরং মানুষের জীবনে নিরাপত্তার আত্মবিশ্বাস স্থাপন করা। তিনি নিজের নেতৃত্বে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং সিসিটিভি নজরদারি এমনভাবে সমন্বয় করেছেন যে, নাগরিকরা পুলিশকে শুধু শৃঙ্খলার রক্ষক হিসেবে নয়, বরং একজন বন্ধু, সহযোদ্ধা এবং সহায়ক হিসেবে অনুভব করছেন।
একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি দেখতে পেয়েছি, তাঁর দৃঢ় নীতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি কার্যকর পুলিশিংয়ের এক অনন্য উদাহরণ। কঠোরতা এবং ন্যায়বিচারের মধ্যে ভারসাম্য রেখে তিনি চট্টগ্রামের প্রতিটি কোণে জনসাধারণের আস্থা অর্জন করেছেন। আমার নোটবুকে বারবার লিপিবদ্ধ হয়েছে—শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার এই দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ প্রশাসনের ধারাবাহিকতা নয়, এটি চেতনাবদ্ধ নেতৃত্বের এক উচ্চতম নিদর্শন। লেখক হিসেবে, আমি অনুভব করি, হাসিব আজিজের কর্মকাণ্ড যেন একটি গল্পের মতো। শহরের প্রতিটি সংকীর্ণ পথ, বন্দর, শিল্প এলাকা, রাতের আলো—সবকিছু তাঁর তত্ত্বাবধানে নিরাপদ হয়ে উঠছে। স্রষ্টার মতোই তিনি প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন, সমস্যা চিহ্নিত করেন, এবং সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমি বলতে পারি, তাঁর কর্মকাণ্ড এবং দর্শন জনগণের কাছে সরাসরি ও প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপনযোগ্য। এটি শুধু পুলিশের কৌশল নয়; এটি সামাজিক আস্থা, মানবিক দায়িত্ব, নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছতার এক পূর্ণাঙ্গ চিত্র। প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণরা শহরে চলাচলে সুরক্ষিত বোধ করছেন, এবং এটি সম্ভব হয়েছে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার কারণে। সংক্ষেপে, কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব কেবল চট্টগ্রামের জন্য নয়, দেশের পুলিশিং ব্যবস্থার জন্যও একটি অনুকরণীয় মডেল। একজন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট—তিনি সেই নেতৃস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি আইজিপি পদে পৌঁছে দেশের পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে গৌরবময় এক অধ্যায় রচনা করবেন। তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায়, সত্যিকারের নেতৃত্ব কেবল পদ বা ক্ষমতায় নয়; এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আস্থা অর্জন, দায়বদ্ধতা ও দৃঢ় নীতি নিয়ে কাজ করার মধ্যেই নিহিত। এই সাক্ষাৎকারটি এক যোগে প্রচার ও প্রকাশিত হবে- জাতীয় দৈনিক ভোরের আওয়াজ, জাতীয় ইংরেজি পত্রিকা টুরিস্ট, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, দৈনিক আমাদের বাংলা,ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া, চট্রল চিত্র, সময়ে আলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category