চট্টগ্রামে চাক্তাইয়ের ৫০০ কোটি টাকার অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে ‘দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা পরিষদ বাংলাদেশ’-এর সেমিনার ও জনসচেতনতা অনুষ্ঠান
চট্টগ্রামের চাক্তাইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন এবং পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বর্জনের দাবিতে এক বিশেষ সেমিনার ও জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা পরিষদ বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে চাক্তাইয়ের ওসমানিয়া গলি ও মসজিদ গলিসহ বিভিন্ন গোপন আস্তানায় অবৈধ পলিথিন মজুদের রুট, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকা ও স্থানীয় কারখানা থেকে ট্রাকে ট্রাকে পলিথিন সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং এর পেছনে জড়িত মূল ১০/১২ জনের মুখোশ উন্মোচন ও গডফাদারের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট পরিবেশবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এতে অংশ নেবেন।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাক্তাইয়ের এই বিশাল অবৈধ বাজার শুধু পরিবেশেরই ক্ষতি করছে না, বরং এর পেছনে রয়েছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও দুর্নীতি। এই সিন্ডিকেট পুরোপুরি ধ্বংস করতে উৎস স্থলেই টাস্কফোর্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা, বড় আড়তগুলো সিলগালা করা এবং বিকল্প হিসেবে পাটের ও কাগজের ব্যাগের ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে এই অনুষ্ঠান থেকে।
সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য-
* সিন্ডিকেটের রুট চিহ্নিতকরণ: চাক্তাইয়ের ওসমানিয়া গলি ও মসজিদ গলিসহ যেসব গোপন গুদামে ঢাকা ও স্থানীয় কারখানা থেকে ট্রাকে ট্রাকে পলিথিন এনে মজুদ করা হচ্ছে, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা।
* বিকল্পের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ: পলিথিন বন্ধ করতে হলে বাজারে পাটের ব্যাগ, কাগজের থলে এবং পচনশীল কাপড়ের ব্যাগের সরবরাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া।
* আইনি প্রয়োগের রূপরেখা: বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী শুধু খুচরা বিক্রেতা বা ক্রেতাকে নয়, বরং চাক্তাইয়ের মূল পাইকারি ১০/১২ জন মূল গডফাদার বা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীকে সরাসরি আইনের আওতায় আনার দাবি তোলা।
অবৈধ পলিথিন বন্ধে ৫ দফা কার্যকর পদক্ষেপ-
১. উৎস স্থলেই কঠোর অভিযান: চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের প্রবেশমুখ ও গুদামগুলোতে জেলা প্রশাসন, টাস্কফোর্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত যৌথ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা।
২. পরিবহন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নকরণ: চাক্তাই থেকে মফস্বলে বা মহানগরের বিভিন্ন কাঁচাবাজারে পলিথিন সরবরাহকারী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানগুলো তল্লাশি করা।
৩. অর্থনৈতিক জরিমানা ও সিলগালা: শুধু সাধারণ জরিমানা নয়, সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বড় বড় আড়ত সিলগালা এবং ব্যাংক হিসাব নজরদারিতে আনা।
৪. ব্যবসায়ী সমিতির জবাবদিহিতা: চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতিকে পলিথিন ব্যবসার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে বাধ্য করা এবং পলিথিনমুক্ত ব্যবসার ঘোষণা দেওয়া।
৫. জনসচেতনতা ও মনিটরিং: স্থানীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী কমিটি ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্যাম্পেইন চালানো।
এই সেমিনারের মাধ্যমে যদি প্রশাসন, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, তবেই চাক্তাইয়ের এই বিশাল পরিবেশ বিধ্বংসী সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিস্তারিত জানতে-
রফিকুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক
দুর্নীতি বিরোধী সচেতনতা পরিষদ বাংলাদেশ।
https://www.probashinews.tv