২০ লাখ টাকার জয়েনিং, পরে আরও ৩০ লাখ টাকার চুক্তি?- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে ডিএলও পদে মোঃ নিয়াজ মোর্শেদের নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (ডিএলও) পদে মোঃ নিয়াজ মোর্শেদের যোগদানের পেছনে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, যোগদানের আগে এককালীন ২০ লাখ টাকা এবং পরে আরও ৩০ লাখ টাকার চুক্তির মাধ্যমে এ নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব, তদবির এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়নের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দপ্তরে সংযুক্ত পদগুলোকে কেন্দ্র করে নীরব প্রতিযোগিতা চলে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, মোঃ নিয়াজ মোর্শেদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশ এবং আর্থিক সমঝোতাই বেশি ভূমিকা রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরেও চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বর্তমানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বা পদায়নে যদি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের মতো স্পর্শকাতর খাতে এ ধরনের অভিযোগ গভীরভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মোঃ নিয়াজ মোর্শেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সুশাসনকর্মীরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনস্বার্থে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।