জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়: বিপিসি কর্মকর্তা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা: বিপিসি’র অঘোষিত সম্রাট মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা আখ্যান।
অনুসন্ধানীপ্রতিবেদন (১)
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ ও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করে গত কয়েক বছরে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সাম্রাজ্য।
ভুয়া সনদে নিয়োগের অভিযোগ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোরশেদ হোসাইন আজাদ বিপিসিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় যে অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তথাকথিত সেই অভিজ্ঞতা ও বয়স জালিয়াতির বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতের নজরে এসেছে। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে দুদক ও বিপিসি কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এসএওসিএল ও অর্থ লোপাট:
বিপিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল)-এ অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকালে মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সেখানে অভ্যন্তরীণ অডিট বাধাগ্রস্ত করা এবং প্রভাব খাটিয়ে সরকারি অর্থ তছরুপের নেপথ্যে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
সম্পদের পাহাড়:
দুদকে জমা হওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও মোরশেদ আজাদের আয়ের উৎসের সাথে তার জীবনযাপনের কোনো মিল নেই। ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় বেনামী সম্পদ, ফ্ল্যাট এবং বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য এখন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে।
বর্তমান অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া:
মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে বিপিসি ও দুদকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অবস্থান দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
(চলবে).