চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক-৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা হত্যার অর্থ যোগান দাতা বিপিসির অঘোষিত সম্রাট মোরশেদ আজাদের কুঠির জোর কোথায়.
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
২০০৩ সালে
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক-৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা হত্যার অর্থ যোগান দাতা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বিপিসির অঘোষিত
সম্রাট মোরশেদ আজাদের দুর্নীতির জট
১. জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ ও অডিট আপত্তি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৯ সালে বিপিসির উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল অনূর্ধ্ব ৩৩ বছর। কিন্তু মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন।
তিনি নিয়োগ পাওয়ার জন্য ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেন।
সরকারি অডিট প্রতিবেদনে এই সনদটিকে আগেই ‘ভুয়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২. দুদকের মামলা ও ১১৯ কোটির কেলেঙ্কারি
বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এসএওসিএল)-এ থাককালীন মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
* মামলা নম্বর: এসএওসিএল-এর ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে একটি মামলা রেকর্ড করেছে, যার নম্বর কেস নং-২৪/২০২৫ [১.৫.২, ১.৬.৯]।
* অর্থ লোপাটের ধরন: নথিপত্রে দেখা যায়, এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (এওসিএল) নামে পাওনা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়েই হিসেবে জমা দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে দুদকের তদন্তে ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মেলে।
৩. সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার (লিফট চুরি)
২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসএওসিএল-এর জন্য চীন থেকে ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩টি লিফট আমদানি করা হয়।
এর মধ্যে ২টির অস্তিত্ব দপ্তরে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি লিফট মোরশেদ আজাদের প্রভাবে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে স্থাপন করা হয়েছে।
৪. হাইকোর্টের রিট ও বর্তমান আইনি অবস্থা
* রিট পিটিশন নম্বর: মোরশেদ আজাদের নিয়োগের বৈধতা ও দুর্নীতির বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন নং-১২৩৫/২০২৪ দাখিল করা হয়েছে।
* হাইকোর্টের নির্দেশ: বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
* পরবর্তীতে মে ২০২৬ এর মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
৫. দৃশ্যমান অবৈধ সম্পদ
দুদকে জমা পড়া অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির টাকায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী লুৎফা জাহানের নামে চট্টগ্রাম শহরের কালুরঘাট ও কালামিয়া বাজারে বহুতল ভবন এবং শহরের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ২০টিরও বেশি দোকান গড়ে তুলেছেন।
মোরশেদ হোসাইন আজাদ ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অর্থ যোগান দাতা ও অভ্যুত্থানের পর ভিন্নমতের কর্মকর্তাদের হয়রানি করার অভিযোগেও অভিযুক্ত।
“অনুসন্ধানের শেষ প্রান্তে এসে দেখা যায়, মোরশেদ আজাদের এই জালিয়াতি কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার চূড়ান্ত অবক্ষয়। হাইকোর্টের রিট (১২৩৫/২০২৪) এবং দুদকের মামলা (২৪/২০২৫) থাকার পরও তিনি যখন মহাব্যবস্থাপকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকেন, তখন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করা স্বাভাবিক। রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও জালিয়াতির এই চক্র ভাঙতে এখন উচ্চ আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে দেশ।”