চট্টগ্রামে অপরাধ দমনে কঠোর সাহসী ওসি আফতাব উদ্দীনের নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানা পুলিশ: ৪ মাসে গ্রেফতার ১৪০০ অপরাধী, উদ্ধার বিপুল মাদক ও অস্ত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম কোতোয়ালি থানা এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিনের সাহসী নেতৃত্বে পরিচালিত এই ধারাবাহিক অভিযানে গত চার মাসে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ প্রায় ১,৪০০ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য।
সূত্রে জানা গেছে, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ জানুয়ারি টাইগারপাস এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫টি অস্ত্র মামলার আসামি মনিরকে ১টি এলজি ও কার্তুজসহ গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া এপ্রিল মাসে বহুল আলোচিত হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রধান আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সবুজকে রক্তমাখা ধামাসহ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ।
অভিযানের বড় সাফল্য আসে মাদক নিয়ন্ত্রণে। পাথরঘাটা এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালিয়ে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। এই চক্রের মূল হোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি মোঃ আবুল খায়ের এবং মে মাসের সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চোলাইমদসহ এক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সহযোগী ইমন কর্তৃক ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশে কোতোয়ালি থানায় তাৎক্ষণিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করে হুমকিদাতা ইমনকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে লালদীঘিরপাড় এলাকা থেকে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ সদস্যকে গ্রেফতার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিনতাই হওয়া ২ লাখ টাকাসহ চোরাই গাড়ি ও মোবাইল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে থানা পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিএমপির কোতোয়ালি থানার বর্তমান ওসির কঠোর ও সাহসী ভূমিকার কারণে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে এসেছে। বিশেষ করে স্টেশন রোড, রিয়াজউদ্দিন বাজার, পাথরঘাটা ও লালদীঘি এলাকায় ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মাঝে।
অভিযান ও কাজের উল্লেখযোগ্য দিক:সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গ্রেফতারে তৎপরতা: গত ১০ মে ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অস্ত্র ও মাদক বিরোধী অভিযান: অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।আলোচিত মামলার আসামি গ্রেফতার: ওসি আফতাব উদ্দিনের অধীনে পুলিশ বাহিনীর যৌথ অভিযানে আলোচিত হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় এজাহারনামীয় প্রধান আসামী কুখ্যাত সন্ত্রাসী সবুজকে রক্তমাখা ধামাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।অপরাধীদের হুশিয়ারি: থানা এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন বলেন, “মাননীয় সিএমপি কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশনায় কোতোয়ালী থানাকে অপরাধমুক্ত করতে আমরা দিনরাত কাজ করছি। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ী—তাদের কোনো দল বা পরিচয় নেই, তারা শুধুই অপরাধী।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোতোয়ালী থানাকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে আমাদের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মাদক ও চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জুয়ার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন এর আগে সিএমপি’র বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য একাধিকবার ‘সেরা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’ নির্বাচিত হয়েছেন।)।