দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পে অবদানের স্বীকৃতি: বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিনকে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার সম্মাননা ও কৃতজ্ঞতা।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, বাস্তবায়ন তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া।
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, কার্যকর সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রামু–গুন্দুম অংশ বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৬,৬৮২ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ উপলক্ষে জনস্বার্থে উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিনকে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক উদাহরণগুলোকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া কাজ করে যাবে।
৬,৬৮২ কোটি টাকার সম্ভাব্য সাশ্রয়: দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পে নতুন দৃষ্টান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দোহাজারী–রামু–কক্সবাজার রেলপথ এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রেল অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই উদ্যোগ শুধু কক্সবাজারকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেনি, বরং পর্যটন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচন করেছে।
২০১০ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত একনেক সভায় “দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন গুন্দুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ” প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির মূল পরিকল্পনায় কক্সবাজারের পাশাপাশি রামু থেকে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী গুন্দুম পর্যন্ত ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে নকশা পরিবর্তন, প্রকল্প সংশোধন, বাস্তবায়নের সময় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কারণে ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকায় পৌঁছে।
তবে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আর্থিক দিক বিবেচনায় রামু–গুন্দুম অংশ বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে সরকারের প্রায় ৬ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং প্রকল্পটি অধিক বাস্তবসম্মত কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ প্রকল্পে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক প্রকল্প পরিচালক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিন প্রশাসনিক সমন্বয়, বাস্তবায়ন তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ভূমিকা রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। একই সময়ে প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং বাস্তবায়নের শেষ ধাপ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগও জোরদার করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রায় ১০২ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্মিত হয়েছে দেশের অন্যতম আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন, একাধিক নতুন স্টেশন, শতাধিক সেতু ও কালভার্টসহ আধুনিক রেল অবকাঠামো।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর অর্থায়নে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ দুটি প্যাকেজে সম্পন্ন হয়। ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে রেলপথটির উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পর্যটন নগরী কক্সবাজার সরাসরি জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়।
রেলপথ চালুর ফলে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কক্সবাজারে যাতায়াত সহজ হয়েছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে।
যদিও রামু–গুন্দুম অংশ আপাতত বাস্তবায়িত হয়নি, সংশ্লিষ্টদের মতে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের পরিস্থিতির উন্নতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ওই পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ তাই শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের সফল সমাপ্তিই নয়; এটি দীর্ঘ পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সমন্বয়, নীতিগত অভিযোজন এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
দোহাজারী–কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, বাস্তবায়ন তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিন-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া।
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকল্পের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, কার্যকর সমন্বয় এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রামু–গুন্দুম অংশ বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৬,৬৮২ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ উপলক্ষে জনস্বার্থে উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক সুবক্তগিনকে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার পক্ষ থেকে সম্মাননা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক উদাহরণগুলোকে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া কাজ করে যাবে।