প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি
চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়নসহ ১২ দফা দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’।
চট্টগ্রাম সার্কিট
হাউসে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে নাগরিক সংগঠন “সচেতন চট্টলাবাসী”।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সচেতন চট্টলাবাসী প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, চ্যানেল এস এর আবাসিক সম্পাদক মুনীর চৌধুরী, সচেতন চট্টলাবাসী সদস্য সচিব নোমান উল্লাহ বাহার, বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ’র সদস্য এস এম সিরাজুদ্দৌলা
সহ বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের আমদানি-রপ্তানি, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, রাজস্ব আহরণ এবং কর্মসংস্থানে চট্টগ্রামের অবদান সর্বাধিক হলেও অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় চট্টগ্রাম তার ন্যায্য প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর, কর্ণফুলী টানেল, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে-টার্মিনাল, ইপিজেড, কাস্টমস হাউসসহ বিভিন্ন কৌশলগত অবকাঠামো দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। তাই চট্টগ্রামকে কার্যকরভাবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।
সচেতন চট্টলাবাসী”র আন্দোলনের মূখে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে বহাল রাখার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয় এবং বাকলিয়ায় বরাদ্দকৃত জায়গায় দ্রুত আধুনিক সদর দপ্তর নির্মাণের আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—চট্টগ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে স্থানান্তর, আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বে-টার্মিনাল দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক কার্গো হাবে উন্নীতকরণ এবং দেশের দ্বিতীয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব বৃদ্ধি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন। চট্টগ্রামকে তার প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা হলে জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমে আসবে।”
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা-
চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি সফল করতে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন, উপস্থিত ছিলেন, সংবাদ প্রচার করেছেন এবং নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন—সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের উন্নয়ন।
উল্লেখ্য যে
সচেতন চট্টলাবাসী’র আন্দোলনের মুখে বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই থাকছে, ৭ জুনের মানববন্ধন স্থগিত.
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে আগামী ৭ জুন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রামের সর্বস্তরের নাগরিক, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক এবং সচেতন মহলের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “বিপিসির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে আছে এবং চট্টগ্রামেই থাকবে।”
মাননীয় মন্ত্রীর এই সুস্পষ্ট ঘোষণা ও আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ আগামী ৭ জুনের পূর্বঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে।
একইসঙ্গে চট্টগ্রামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশকারী সর্বস্তরের নাগরিক, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সকলের প্রতি ‘সচেতন চট্টলাবাসী’ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
সচেতন চট্টলাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন আমাদের প্রধান দাবি হলো—চট্টগ্রামে বিপিসির জন্য নবনির্মিত ৫০কোটি টাকায় ৫মতলা নবনির্মিত ভবনে হস্তান্তর এবং বাকলিয়ায় বরাদ্দকৃত
স্থানে দ্রুত স্থায়ী ও আধুনিক প্রধান কার্যালয় নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা এবং চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা।
ধন্যবাদান্তে,
মুনীর চৌধুরী
আহ্বায়ক
সচেতন চট্টলাবাসী।
নোমান উল্লাহ বাহার
সদস্য সচিব
সচেতন চট্টলাবাসী।
mchypd@gmail.com
🌐https://jantechaijanatechai.com