• রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫১ অপরাহ্ন
Headline
বাংলাদেশে প্রাইভেট ডিটেকটিভ কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত: মুনীর চৌধুরী প্রাইভেট ডিটেকটিভ লিমিটেড আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রিহ্যাব নির্বাচনে ‘কালক্ষেপণ’: নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণায় গড়িমসি, কমিশনের রহস্যজনক ভূমিকা। সেবা নিতে এসে কেউ ফিরে না খালি হাতে : ডিসি জাহিদ এর দরবারে। কোট অব আর্মস-এর ঊর্ধ্বে আত্মা: প্রিন্স পাওলো ডি বুরবোঁ রিবেজ্জি এবং হৃদয়ের উত্তরাধিকার — অরলান্ডো সিমিয়েলে হাইকোর্টের আদেশে রিহ্যাব নির্বাচনে মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল; নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি রিহ্যাব নির্বাচনে মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থীতা বাতিল-ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে একক প্রার্থী নূর উদ্দিন বিপিসিতে বড় রদবদল: একযোগে ৭ শীর্ষ কর্মকর্তার বদলি জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদ ১৮ নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জনসমর্থনে এগিয়ে হাজী মোহাম্মদ মুসা অশুভ বিনাশী সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় দেশবাসীকে মুনীর চৌধুরীর নববর্ষের শুভেচ্ছা

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রিহ্যাব নির্বাচনে ‘কালক্ষেপণ’: নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণায় গড়িমসি, কমিশনের রহস্যজনক ভূমিকা।

Reporter Name / ৭৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে রিহ্যাব নির্বাচনে ‘কালক্ষেপণ’: নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণায় গড়িমসি, কমিশনের রহস্যজনক ভূমিকা।

মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় একক প্রার্থী নূর উদ্দিন; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন রিয়েল এস্টেট ও হাউজিং বিল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (রেহাব)-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েও বিজয়ী ঘোষণা পাচ্ছেন না মোহাম্মদ নূর উদ্দিন আহমেদ। হাইকোর্টের সুস্পষ্ট আদেশে অপর প্রার্থী মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসানের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় নূর উদ্দিন এখন এই পদের **একমাত্র বৈধ প্রার্থী**। কিন্তু আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও রেহাব নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল (১৭ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে **প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের** প্রার্থী মোহাম্মদ নূর উদ্দিন আহমেদ এই অভিযোগ করেন এবং আগামীকালই হাইকোর্টে **‘কনটেম্পট পিটিশন’ (আদালত অবমাননা)** দায়ের করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আদালতের আদেশ vs কমিশনের নীরবতা
সংবাদ সম্মেলনে নূর উদ্দিন আহমেদ জানান, বাণিজ্য সংগঠন আইন ও রেহাবের বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি কোনো পদে থাকতে পারেন না। এই বিধি লঙ্ঘন করে মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হলে, নূর উদ্দিন বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে **রিট পিটিশন নং ৩৭৬৩/২০২৬** দায়ের করেন।

গত **১৩ এপ্রিল ২০২৬** তারিখে মাননীয় বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের বেঞ্চ রায়ে মোরশেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ইলেকশন আপিল বোর্ডকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন।

নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, *“আদালতের আদেশের কপি আমরা গত ১৬ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও (DTO) এবং রেহাব নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী, যখন একজন প্রার্থী অবৈধ ঘোষিত হন এবং অন্যজন একক বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকেন, তখন কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতা হলো তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কমিশন এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে।”*

কালক্ষেপণের পেছনে ‘অসাধু যোগসাজশ?
নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ (১৮ এপ্রিল ২০২৬) ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে কমিশনের এই ধীরগতির পেছনে গোপন ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন নূর উদ্দিন আহমেদ। তিনি দাবি করেন:

কমিশনারদের রহস্যজনক অনুপস্থিতি:নির্বাচনের ঠিক আগে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেহাব নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দীর্ঘ সময় অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন।
শেষ কর্মদিবসেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। এটিকে নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণা থেকে বিরত রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।
প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নির্বাচন বোর্ডের একাংশ একটি বিশেষ পক্ষকে (মোরশেদুল হাসান গ্রুপ) সুবিধা দিতে আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করছে।

মোরশেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিলের বিপরীতে কোনো আইনি ছিদ্র খুঁজে বের করার জন্য সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে, যাতে জোরপূর্বক ভোটগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নূর উদ্দিন আহমেদ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, *“আদালতের আদেশ অমান্য করে যদি ওই পদে কোনো ভোট গ্রহণের চেষ্টা করা হয়, তবে তা সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে গণ্য হবে। আমরা এই অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আগামীকালই মহামান্য হাইকোর্টে ‘কনটেম্পট পিটিশন’ দায়ের করব এবং দায়ী কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাব।”*

তিনি আরও বলেন, *“রেহাবের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ সংস্থার নির্বাচনে আইনের শাসন বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। কমিশনের এই গড়িমসি সংস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।”*

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নূর উদ্দিন আহমেদ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, *“মন্ত্রণালয় যেন অবিলম্বে রেহাব নির্বাচন কমিশনকে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেয় এবং একক প্রার্থী হিসেবে আমাকে বিজয়ী ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।”*

মোরশেদুল হাসান অযোগ্য?
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান রেহাব চট্টগ্রাম রিজিয়নে নিম্নলিখিত মেয়াদগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন:
– ২০১৮–২০২০ → ১ম মেয়াদ
– ২০২১–২০২৩ → ২য় মেয়াদ
– ২০২৪–২০২৬ → ৩য় মেয়াদ

বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ এবং রেহাবের বিধির **ধারা ১৮(৪) ও (৫)** অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি কোনো পদে থাকতে পারেন না। তাই ২০২৬-২০২ মেয়াদে তিনি প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন। হাইকোর্ট এই যুক্তিটিই গ্রহণ করেছেন।

মোরশেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় নূর উদ্দিন আহমেদ এখন ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদের একমাত্র বৈধ প্রার্থী।
সাধারণত একক প্রার্থী থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণার নিয়ম থাকলেও, রেহাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক গেজেট বা ঘোষণা আসেনি।

রেহাবের সাধারণ সদস্য এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ কমিশনের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও কেন নির্বাচন কমিশন আইন মেনে চলছে না?

রেহাব নির্বাচন এখন একটি আইনি ও নৈতিক পরীক্ষার মুখে। যদি কমিশন হাইকোর্টের আদেশ মানে, তবে নূর উদ্দিন আহমেদকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচনী সংকটের নিরসন হতে পারে। অন্যথায়, কনটেম্পট মামলা ও আদালতের কঠোর অবস্থানের মুখে কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ এখন তাকিয়ে আছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রেহাব নির্বাচন কমিশনের আগামী ২৪ ঘণ্টার পদক্ষেপের দিকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন
– মোহাম্মদ নূর উদ্দিন আহমেদ (প্রার্থী, ভাইস প্রেসিডেন্ট – চট্টগ্রাম)
– প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের নেতৃবৃন্দ
– রেহাবের সাধারণ সদস্য ও আইনজীবীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category