হাইকোর্টের আদেশে রিহ্যাব নির্বাচনে মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিল; নূর উদ্দিনকে বিজয়ী ঘোষণার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা/চট্টগ্রাম:
আসন্ন রিহ্যাব (REHAB) নির্বাচন ২০২৪-২৬ মেয়াদে ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে মোহাম্মদ নূর উদ্দিন আহমেদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে অপর প্রার্থী মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় নূর উদ্দিন আহমেদ এখন এই পদের একমাত্র বৈধ প্রার্থী।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থী মোহাম্মদ নূর উদ্দিন আহমেদ এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও রিহ্যাব নির্বাচন কমিশন তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে কালক্ষেপণ করছে, যা আইনের চরম লঙ্ঘন।
লিখিত বক্তব্যে নূর উদ্দিন আহমেদ জানান, বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২-এর ধারা ১৮(৪) ও ১৮(৫) অনুযায়ী মোর্শেদুল হাসান পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করায় এবার নির্বাচনের অযোগ্য। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং- ৩৭৬৩/২০২৬) দায়ের করা হলে গত ১৩ এপ্রিল আদালত মোর্শেদুল হাসানের প্রার্থিতা বাতিলের নির্দেশ দেন।
নূর উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “গত ১৬ এপ্রিল আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও (DTO) এবং রিহ্যাব নির্বাচন কমিশনকে আদালতের আদেশের কপি লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী ওই পদে এখন আমিই একমাত্র প্রার্থী এবং আমাকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা কমিশনের আইনি বাধ্যবাধকতা।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে কমিশন এখনো নীরব ভূমিকা পালন করছে।”
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, আদালতের আদেশ অমান্য করে যদি ওই পদে কোনো ভোট গ্রহণের চেষ্টা করা হয়, তবে তা ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে গণ্য হবে। এই অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আগামীকালই মহামান্য হাইকোর্টে ‘কনটেম্পট পিটিশন’ বা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে এবং দায়ী কমিশনারদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এ সময় নূর উদ্দিন আহমেদ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবং রিহ্যাবের ভাবমূর্তি রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সাধারণ সদস্য এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নূর উদ্দিন আহমেদের বিষয়টি: যেহেতু নূর উদ্দিন আহমেদ ভাইস প্রেসিডেন্ট (চট্টগ্রাম) পদে একক প্রার্থী এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রার্থিতা আদালত বাতিল করেছে, তাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা ডিটিও (Director General of Trade Organizations) এই পদে তাকে বিজয়ী হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করার নির্দেশ দিতে পারে। তবে এটি মূলত নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতি:
এখন পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো “জরুরি হস্তক্ষেপ” বা প্রশাসক নিয়োগের অফিশিয়াল ঘোষণা আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ১০:৩০ টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের পলাতক থাকা এবং প্রার্থীদের ক্ষোভের বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।